আমি এবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুচ্ছে চান্স পেয়েছি।
ঢাবিতে পজিশন :৬৪৬
রাবি (৩য় শিফট):৩৯৫
গুচ্ছ:৭৬৫
আমি আমার অ্যাডমিশন জার্নিটা সকল জুনিয়রদের উদ্দেশ্য আজ শেয়ার করছি। সত্যি বলতে কি আমার অ্যাডমিশন যুদ্ধটা সবার থেকে একটুখানি হলেও আলাদা! আমি প্রত্যন্ত গ্রামের একটা কলেজ থেকে উঠা আসা একজন যোদ্ধা! SSC তে জিপিএ -৫ পাওয়ার পরও বাইরের ভালো কোনো একটা কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হয়েছিলো না! কারন সবার যেমন একটা স্বাভাবিক পরিবার থাকে আমার সেটা ছিলো না! ক্লাস থ্রিতে (3) পড়াকালীন সময়ে আমার জীবনটা এলোমেলো হয়ে যায়! আকাশের ছেয়ে যাওয়া কালো মেঘের মতো আমার জীবনেও অন্ধকার নেমে আসে! কারন ঐ সময় আমার বাবা আমাকে ছেড়ে পরপারে চলে যায়! কারনটা প্রথমদিকে আমার কাছে অস্পষ্ট হলেও পরে বুঝতে পারি! আপনারা যাকে " মা" বলে সম্বোধন করেন আমার ঐ জিনিসটা আমার আব্বু বেঁচে থাকাকালীন সময়ে তাকে ছেড়ে অন্য কারো সাথে সম্পর্ক করে যেটা আব্বু কোনোভাবেই মেনে নিতে পেরেছিলো না মানসিক টেনশন করতে করতে কিছুদিন পরেই হার্ট অ্যাটাক করে সারাজীবনের জন্য আমাকে একা করে চলে যায়!তারপর আমার ছোট কাকা আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায় ওখানে ক্লাস -8 পর্যন্ত থাকার পর দাদা-দাদির কাছে পাঠিয়ে দেন! তারপর থেকে দাদা-দাদির কাছে থাকি! আর্থিক সমস্যার কারনে HSC তে Science না নিয়ে একটা আঙ্কেলের পরামর্শে মানবিক শাখাতে ভর্তি হই! ১ম দিকে এই কারনে একটু ভেঙে পড়েছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে নিজেকে শক্ত করে আমার নতুন একটা লক্ষ্য স্থির করি যে আমাকে যেভাবেই হোক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতেই হবে তাই শুরু থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করি! এই কারনে আমি একটা স্মার্ট ফোন কিনি অনেকেই মনে করেন যে স্মার্টফোন শুধুমাত্র হয়তো খারাপ দিতে প্রভাবিত করে কিন্তু আমি বলবো তোমার লক্ষ্য আর মনোবল আর সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাসটা যদি দৃঢ় হয় তোমাকে কোনো শক্তিই পেছনের দিকে টেনে ধরতে পারবেনা! HSC -তে বাংলা ১ম পত্র, ইংরেজি ১ম পত্র বইটা সিলেবাস অনুযায়ী একদম খুটিনাটি সবকিছু পড়ে ফেলি! আর এইটা করতে আমার এই স্মার্ট ফোনটা আমায় অনেক বেশি সাহায্য করেছে!অনলাইনে শুরু থেকেই অনেকের বিভিন্ন ক্লাস দেখতে থাকি যাদের ক্লাসগুলো ভালো লাগে তাদের নিয়মিত ফলো করতে থাকি ইংরেজির জন্য আমি ১ম থেকেই সিদ্দিক মহসিন পাটোয়ারী ভাইয়ের ক্লাসগুলো করতাম! ইংরেজি মজা চ্যনেলের রফিক স্যারের ক্লাসগুলোও করতাম আর বাংলার জন্য শাহরিয়ার ফিরোজ শাওন ভাইয়ের ক্লাসগুলো করতাম! text hacks, অভিযাত্রী,মিহির জিকে, জোবায়ের জিকে, জয়কলি এমন অনেক গ্রুপ আমি খুঁজে খুজে বের করি এবং তাদেরকে নিয়মিত ফলো করার চেষ্টা করি! নিয়মএমনকি অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপে প্রচুর এক্সাম দিতাম! নিজের প্রস্তুতি ঝালাই করার জন্য আর প্রশ্ন প্যার্টান বোঝার জন্য! আর আমি এইচএসসিতে যে ভাইয়ের কাছে কোচিং করতাম তিনি আমাকে সবসময় সাহায্য করতো বর অনুপ্রেরণা জোগাতো আর তার কাছেই অর্থনীতি,আইসিটির পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞানটা এগিয়ে রাখতাম! এভাবেই HSC তে সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমার গ্রামের কলেজ থেকে আমি একাই গোল্ডেন A+ এর পাশাপাশি যশোর বোর্ড থেকে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিও পায়! HSC পরীক্ষার পরপরই অ্যাডমিশন কোচিং কোথায় করবো এই নিয়ে চিন্তায় পরে যায় পরে আমার গ্রামের এক বড় ভাই ঢাবিতে চান্স পেয়েছিলো তার সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারি ওনি কুষ্টিয়া সোহান'স কোচিং এ পড়েছিলো! আমার জন্য ঢাকায় কোচিং করতে যাওয়া দুঃস্বপ্ন ছিলো তাই সেই ভাইয়ের পরামর্শ ও সুপারিশে সোহান'স এ্যাডমিশন কোচিং -এ ভর্তি হই! এরপর তাদের প্রতিটা ক্লাস খুব মনোযোগ সহকারে করতে থাকি আমার যেটুকু গ্যাপ ছিলো এখানকার স্যারদের ক্লাসে তার সম্পূর্ণটুকু পূরণ হয়ে যায়! এবং এভাবেই সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি!
তাই আমার সকল জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে বলছি তুমি ১মে তোমার লক্ষ্যস্থির করো! আর মন থেকে সকল ধরনের হিংসা অপসারন করো সৃষ্টির্কতার উপর দৃঢ় ভরসা রাখো আর সঠিক দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তোমার অ্যাডমিশন যাত্রা শুরু করো পাগলের মতো পরিশ্রম করো দেখবে সৃষ্টিকর্তা নিজেই তোমাকে তোমার কাঙ্ক্ষিত সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিবে! আমি যদি এখানে থেকে এভাবেও উঠে আসতে পারি তবে তুমি কেনো পারবেনা নিজের উপর ভরসা রাখো তুমিও পারবে!
আর আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যাতে আমার সামনের পথচলাটা সহজ হয় আমি যেনো সবার আগে একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারি! সৃষ্টিকর্তা যেনো সর্বদা আমার পাশে থাকেন!
Custom Widget
Beauty
3/Beauty/post-per-tag
.jpeg)

কোন মন্তব্য নেই: